আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত-এর দাবি
বনাম
দুর্লভতা ও তকমাবাজি
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন,
بَدَأَ الإِسْلاَمُ غَرِيبًا وَسَيَعُودُ كَمَا بَدَأَ غَرِيبًا فَطُوبَى لِلْغُرَبَاءِ.
ইসলামের যাত্রা শুরু হয়েছিল অপরিচিত-অচেনা অবস্থায়। আর অচিরেই তা আবারও সেই অপরিচিত-অচেনা অবস্থায় ফিরে যাবে যেমনভাবে তা শুরু হয়েছিল। সুতরাং সুসংবাদ রইলো অপরিচিত-অচেনাদের জন্য (যারা সত্যের পথে অবিচল থাকবে, যখন সর্বসাধারণ তা ত্যাগ করবে)।-সহীহ মুসলিম
এটা স্বীকার্য যে, ইসলামের ইতিহাসে কালক্রমে বিভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে নানা চিন্তানৈতিক ধারার আবির্ভাব ঘটে। এর ফলে মুসলমানরা অসংখ্য গোষ্ঠী, দল-উপদল ও গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, যার গ্লানি উম্মাহ এখনও টেনে চলছে। বর্তমানে আমরা কেউ মধ্যপন্থী, কেউ উদারপন্থী, কেউ চরমপন্থী; কেউ ঐতিহ্যবাদী, কেউ যুক্তিবাদী, কেউ মিশ্রপন্থী; কেউ যাহিরপন্থী, কেউ বাতিনপন্থী; কেউ কর্মবাদী, কেউ ভক্তিবাদী; কেউ সংরক্ষণবাদী, কেউ আধুনিকতাবাদী; কেউ রাজনীতিক, কেউ সমাজনির্মাতা, কেউ নির্ঝঞ্ঝাট দাঈ-মুবাল্লিগ, কেউ নিভৃতচারী সাধক; কেউ সংগ্রামী-প্রতিবাদী, কেউ স্বৈরচারের মোসাহেব; কেউ গণতন্ত্রী, কেউ রাজতন্ত্রী, কেউ শূরাপন্থী; .. প্রভৃতি। এসব ধারা ও গোষ্ঠীর চিন্তাবিশ্বাস ও কর্মের মধ্যে কমবেশি স্পষ্ট পার্থক্য ও বিভেদ রয়েছে।
আমাদের চিন্তা-বিশ্বাস, কার্যকলাপ ও অবস্থান যাই হোক-আমরা প্রায় সকলেই নিজেদেরকে ‘আহলে হক’ এবং আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত-এর একান্ত অনুসারী মনে করে থাকি। অনুরূপ আমাদের অনেক দলই নিজেদেরকে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত-এর একক প্রতিনিধিত্বশীল ‘হক’ দলরূপে দাবি করে থাকে। এ কারণে আমরা অনেকেই নিজেদের এবং নিজেদের দল ছাড়া অন্যান্য দল ও তাদের অনুসারীদের প্রায়ই বাতিল, গোমরাহ, ক্ষেত্রবিশেষে কাফির বলেও আখ্যায়িত করে থাকি। অধিকন্তু, পরস্পর একে অপরকে কোনোরূপ নিয়মনীতির পরওয়া ছাড়াই শী‘আ, খারিজী, নাসিবী প্রভৃতি ট্যাগও অনায়াসে লাগিয়ে থাকি। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় যে, আমাদের মধ্যে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের প্রকৃত অনুসারী সত্যিকার কোনো মুমিন-মুসলিমই নেই, যদি পরস্পরের বিরুদ্ধে আরোপিত ট্যাগ ও তকমাগুলো সব সত্য বলে ধরে নেওয়া হয়। কেউ শী‘আ, কেউ খারিজী, কেউ নাসিবী, কেউ বিদআতী, কেউ বাতিল, কেউ গোমরাহ, .. ইত্যাদি! হাফিয ইবনু হাজার (রাহ.)-এর নিম্নোক্ত মন্তব্যে উম্মতের এ সঙ্গীন অবস্থার একটি রূঢ় চিত্র ফুটে ওঠেছে-
كلَّ طائفةٍ تدعي أن مخالفيها مبتدعةٌ، وقد تُبالغ فتكفِّر مخالفيها، فلو أُخِذَ ذلك على الإطلاق لاستلزم تكفير جميعِ الطوائفِ.
উম্মতের প্রত্যেকটি দল তো তার প্রতিপক্ষ দলগুলোকে বিদ‘আতী বলে আখ্যায়িত করে থাকে, আবার কখনো অতিরঞ্জন করে তাদের তাকফীরও করে থাকে। কাজেই তাদের এ দাবিগুলোকে যদি সাধারণভাবে গ্রহণ করে নেওয়া হয়, তাহলে তো উম্মতের সকল দলের তাকফীর সাব্যস্ত হবে। (অর্থাৎ এরূপ হলে তো দুনিয়াতে মুমিন-মুসলিম বলতে আর কেউ রইলো না)।
কবির নিম্নোক্ত কথাটি যদিও তীব্র ব্যাঙ্গাত্মক ও সমালোচনামূক, তবুও বলা চলে, এতে অনেকাংশে বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটেছে-
مسلمانوں کے ہر فرقے نے ایک دوسرے کو کافر کہا *** بس ایک کافر ہی ہے جو ہم سب کو مسلمان کہا.
মুসলমানদের প্রতিটি দল একে অপরকে কাফির বলেছে; কেবল কাফিররাই আছে, যারা আমাদের সবাইকে মুসলমান বলছে!!
বলার অপেক্ষা রাখে না, আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআত-এর অনুসরণ নিছক দাবির বিষয় নয়। প্রকৃতপক্ষে কারা কতটুকু এ আখ্যার উপযোগীÑ তা নির্ভর করবে তাদের সামগ্রিক চিন্তা-বিশ্বাস ও কার্যকলাপের ওপর। আমাদের দৃঢ় বিশ^াস, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। এখানে যেমন আকীদা-বিশ্বাসের বিবরণ আছে, তেমনি আছে ইবাদত, মু‘আমলাত, মু‘আশরাত সিয়াসত প্রভৃতির বিবরণ। কাজেই যদি দেখা যায়, ব্যক্তি বা দলবিশেষের চিন্তাবিশ্বাস, ইবাদত, মু‘আমলাত, মু‘আশরাত, সিয়াসত প্রভৃতি সুন্নাহসম্মত এবং দ্বীন ও মিল্লাতের পক্ষে তাদের বোঝাপড়া ও সামগ্রিক অবস্থান জামা‘আতে সাহাবা ও তাবি‘ঈনের চিন্তা ও কর্মের আদলে নির্মিত, তবেই বলা যায় যে, তারা আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের পূর্ণাঙ্গ অনুসারী, আহলে হক। একদিকে তারা যেহেতু সুন্নাত অনুসারেই জীবনযাপন করে, তাঁই তাদেরকে বলা হয় ‘আহলুস সুন্নাত’। অপরদিকে যেহেতু তাঁরা দ্বীনের ব্যাপারে ইসলামের মূলধারার ওপর সংঘবদ্ধভাবে অবস্থান করেন; কোনোরূপ দলাদলিতে লিপ্ত হন না এবং সাহাবী ও তাবি‘ঈগণ যেসব বিষয়ের ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন তাঁরা তার অনুসরণ করেন, তাই তাঁদেরকে ‘আহলুল জামাআত’ নামে অভিহিত করা হয়।
কিন্তু বাস্তবে আমরা লক্ষ্য করি যে, আমাদের মধ্যে কারো আকীদা ঠিক তো, মু‘আমলাত ঠিক নেই; কারো মুআলামাত ঠিক তো মু‘আশরাহ ঠিক নেই; কারো মু‘আশরাহ ঠিক তো সিয়াসত ঠিক নেই। আবার এমনও অনেকেই আছে, যাদেরÑ আগা থেকে গোড়াÑ কিছুই ঠিক নেই। তারা হয়তো মুসলিম পিতামাতার ঔরষে জন্মগ্রহণ করেছে এবং নামেও মুসলিম পরিচয় বহন করে বটে; তবে কার্যত তারা হলো ধর্মবিরোধী বা ধর্মহীনÑ লিবারেলিস্ট, সেক্যুলারিস্ট, হিউম্যানিস্ট, মেটারেলিস্ট, মডার্নিস্ট, পোস্ট-মডার্নিস্ট, ফেমিনিস্ট; .. প্রভৃতি।
বলতে গেলে মুসলিমদের মধ্যে এমন লোকের সংখ্যা খুবই কম, যারা ইসলামকে পরিপূর্ণরূপে মেনে চলতে সচেষ্ট। তাদের মধ্যে কেউ হয়তো পুরোই ধর্মহীন বস্তুবাদী, আর কেউ পুরোই দুনিয়া-বর্জনকারী সাধক; কেউ শুধু ইলম ও মা‘রিফত লাভের পেছনে ছুটছে, আর কেউ কতিপয় নির্দিষ্ট আমল ও ইবাদতের পেছনে ছুটছে; কেউ ব্যক্তিজীবনে সৎ ও দ্বীনদার, কিন্তু সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জীবনে অসৎ ও দুর্নীতিপরায়ণ; কেউ মসজিদে আল্লাহর গোলাম, বাইরে তাগুতের গোলাম, প্রবৃত্তির গোলাম; ...।
সুতরাং বলা চলে, মুসলমানদের মধ্যে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত-এর পূর্ণাঙ্গ অনুসারী একান্ত দুর্লভ। তাঁদের খোঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। তারা সংখ্যায় যেমন অতি অল্প, তেমনি তারা অপরিচিতও এবং তাদের অবস্থাও সঙ্কটাপন্ন। হাদীসের ভাষায়Ñ এককথায় তারা হলেন ‘গরীব’ (বিরল, অপরিচিত-অচেনা)। আমীরুল মুমিনীন ফিল হাদীস সুফইয়ান আছ-ছাওরী (রাহ.) বলেন, استوصوا بأهل السنة خيرا فإنهم غرباء-‘‘আহলুস সুন্নাহর সাথে ভালো ব্যবহার করো। কারণ, তারা হলেন গরীব।’’ তিনি অন্যত্র বলেন,
إذا بلغك عن رجل بالمشرق صاحب سنة وآخر بالمغرب فابعث إليهما بالسلام وادع لهما، ما أقل أهل السنة والجماعة
যদি তুমি জানতে পাও যে, পৃথিবীর পূর্ব প্রান্তে একজন ‘সাহিবে সুন্নত’ (সুন্নতের অনুসারী) রয়েছেন আর অপর একজন রয়েছেন পৃথিবীর পশ্চিম প্রান্তে, তাহলে তাঁদের দুজনকেই আমার সালাম পৌঁছে দিও এবং তাদের জন্য আল্লাহর নিকট দু‘আ করো। কারণ, আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত সংখ্যায় কতোই না কম! কতোই না দুর্লভ।
এ প্রসঙ্গে ইমাম ইবনু কাইয়িম (রাহ.)-এর উক্তিটি প্রণিধানযোগ্যÑ
فأهل الإسلام في الناس غرباء والمؤمنون في أهل الإسلام غرباء وأهل العلم في المؤمنين غرباء وأهل السنة الذين يميزونها من الأهواء والبدع فهم غرباء والداعون إليها الصابرون على أذى المخالفين هم أشد هؤلاء غربة ولكن هؤلاء هم أهل الله حقا
মানুষের মধ্যে প্রকৃত মুসলিমরা গরীব (বিরল/অচেনা); মুসলিমদের মধ্যে প্রকৃত ঈমানদাররা আরও গরীব; আর মুমিনদের মধ্যে প্রকৃত আলিমরা আরও গরীব; আবার আলিমদের মধ্যে প্রকৃত আহলুস সুন্নাহÑ যারা সুন্নাহ এবং পার্থিব লালসা ও বিদ‘আতের মধ্যে পার্থক্য করে চলেনÑ আরও গরীব; সুন্নাহর দিকে আহ্বানকারীÑ যারা বিরোধীদের কষ্ট-যাতনা সহ্য করে তারাÑ উপর্যুক্ত সকলের চেয়েও গরীব (বিরল/অচেনা)। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এরাই হলেন আহলুল্লাহÑ আল্লাহর সত্যিকার প্রিয়জন। (মাদারিজুস সালিকীন)
মোটকথা, দাবির মধ্যে অনেক সময় ব্যক্তির বাস্তব অবস্থা ফুটে ওঠে না। যেমন- কেউ নিজেকে মুসলিম দাবি করলো; কিন্তু সে তার ব্যবহারিক জীবনে ইসলামের বিধিবিধান মেনে চললো না, তবে তার পক্ষে যেমন প্রকৃত মুসলিম হওয়া সম্ভব নয়, তেমনি কেউ নিজেকে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত-এর অনুসারী দাবি করলো, কিন্তু সে তার চিন্তাবিশ^াস, ইবাদত ও কার্যকলাপে সুন্নাহর নির্দেশনা মেনে চললো না, তাহলে তার পক্ষেও প্রকৃত আহলুস সুন্নাত হওয়া সম্ভব নয়, অধিকন্তু সে ‘সুন্নী’ আখ্যায় ভূষিত হওয়ারও উপযোগী নয়।
এমনও হতে পারে যে, কেউ নিজেকে বা কিংবা নিজের পছন্দ দলকে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআত-এর একান্ত অনুসারী মনে করলো; কিন্তু বাস্তবে তার বা তার পছন্দের দলের মধ্যে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের মৌলিক বিষয়সমূহ ও প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্যগুলো পাওয়া যায় না। প্রকৃতপক্ষে সে বা তার দল হয়তো পুরোভাগেই আহলুল বিদ‘আত (বিদআতী) ও আহলুল হাওয়া (প্রবৃত্তিপূজারী)-এর একান্ত অনুসারী অথবা আংশিকভাবে আহলুস সুন্নাতের অনুসারী আর আংশিকভাবে আহলুল বিদ‘আত ও আহলুল হাওয়ার অনুসারী। কাজেই যারা মৌলিকভাবে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআত-এর আদর্শ অনুসরণ করে, কিন্তু কোথাও কোথাও বিচ্যুত হয়ে যায়, তারা যে যে অংশে বিচ্যুত হলো, সে অংশগুলোতে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআত থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলো, ততটুকুর মধ্যে তারা আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআত-এর অন্তর্ভুক্ত নয়। পক্ষান্তরে যারা মৌলিকভাবে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআত-এর আদর্শের ওপর নেই, কিন্তু আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআত-এর এক বা একাধিক গুণ বা বৈশিষ্ট্য তাদের মধ্যে আছে, তাহলে ততটুকুর মধ্যে তারা আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআত-এর অনুসারী। তবে এভাবে কয়েকটি বৈশিষ্ট্য অবলম্বন দ্বারা তারা ‘আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআত’ আখ্যায় ভূষিত হবার উপযোগী হবে না। মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (রাহ.) বলেন,
‘‘আকায়িদ, মু‘আমালা, মু‘আশারা- এভাবে দীনের সকল ক্ষেত্রে আপনাকে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আদর্শের ওপর থাকতে হবে। আপনি যদি শুধু আকীদা-বিশ্বাসের ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আদর্শের ওপর থাকেন, অন্যান্য বিষয়ে না থাকেন তাহলে আপনাকে ‘কামিল সুন্নী’ বলা হবে না। সুতরাং এই চিন্তা ভুল যে, ইনতিসাব ও সম্বন্ধ হলেই সব হয়ে গেলো বা উসূল ও আকায়িদের ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আদর্শ অনুসরণ করলেই সবকিছুর মধ্যে তাদের অনুসরণ হয়ে গেলো কিংবা এক অংশে অনুসরণ হলেই সব অংশে অনুসরণ হয়ে গেলো ইত্যাদি। এগুলো ভুল চিন্তা।”
উল্লেখ্য যে, ভ্রান্ত ও বিদ‘আতী বহু মুসলিম দল নিজেদেরকে ‘আহলুস সুন্নাত’ ও ‘সুন্নী’ নামে আখ্যায়িত করে থাকে। তাদের এরূপ নামকরণ অবান্তর ও অমূলক। কারণ, তাদের চিন্তাধারা, আমল ও আচার-আচরণ থেকে তাদের এরূপ নামকরণের বাস্তব সাক্ষ্য পাওয়া যায় না। তারা সুন্নাতের নামের আড়ালে ইসলামে বহু বিদ‘আতের অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে। আবার যারা আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত-এর সত্যিকার অনুসারী, যুগে যুগে বিদ‘আতী দলগুলোও তাঁদেরকে সুন্নাতের অনুসারী বলে স্বীকৃতি দিতে চায়নি। তারা তাঁদেরকে মিথ্যাবাদী বলে আখ্যা দিয়েছে। যেমনÑ আগেকার যুগে আহলুস সুন্নাতের অনুসারীদেরকে কাদরিয়্যাহ ও মু‘তাযিলীরা ‘মুজবিরাহ’ (চরম অদৃষ্টবাদী) নামে অভিহিত করে থাকে। এর কারণ তারা উল্লেখ করে, এ দলটি বিশ^াস করে যে, সমগ্র সৃষ্টিজগত আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছা ও শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। জাহমিয়্যারা তাঁদেরকে ‘মুশাব্বিহাহ’ (সাদৃশ্যবাদী) নাম দেয়। কারণ, তাঁরা আল্লাহ তা‘আলার নাম ও গুণাবলিতে বিশ^াস করেন। মুরজিয়ারা তাঁদেরকে ‘শাককিয়াহ’ (সংশয়বাদী) ও ‘নুকসানিয়াহ’ (হ্রাসবাদী) নামে অভিহিত করে থাকে। এর কারণ, তাঁরা ঈমানের হ্রাস-বৃদ্ধি স্বীকার করেন এবং তাদের প্রত্যেকেই বলেন যে, ইনশা’আল্লাহ আমি একজন মুমিন। রাফিজীরা তাঁদেরকে ‘নাসিবিয়্যাহ’ বলে। কেননা, তাঁরা সকলের সম্মতি ও রায়ের ভিত্তিতে ইমাম (রাষ্ট্রপ্রধান) নির্বাচনের কথা বলেন। বাতিনিয়্যাহরা তাঁদেরকে ‘হাশভিয়্যাহ’ নামে অভিহিত করে। কারণ, তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদীস ও সাহাবা কিরামের জীবনাদর্শ অনুসরণ করে থাকেন। ... এভাবে এ দলটিকে অন্যান্য দলের লোকেরা যেমন খুশি তেমন নাম দিয়েছে। অথচ তাদের প্রদত্ত কোনো নামই এ দলের জন্য উপযুক্ত নয়; প্রযোজ্য হতে পারে না।**
** প্রবন্ধটি ৭ ডিসেম্বর ২০২৪-এ বাংলাদেশ আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত চট্টগ্রাম-এর উদ্যোগে আয়োজিত মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিলে পেশকৃত আলোচনার আলোকে প্রস্তুতকৃত।