একজন পিতা জীবদ্দশায় নিজের সম্পদ সন্তানদের কাউকে বা একাধিক সন্তানকে বিভিন্ন কারণে হেবা করতে কিংবা কোনো না কোনোভাবে তাঁদের নামে সম্পদ হস্তান্তর করতে পারেন।
এর পেছনে কখনো থাকে সন্তানের প্রয়োজন পূরণ, কখনো ভালোবাসা ও মমতা, কখনো তার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চিন্তা; আবার কখনো থাকতে পারে পক্ষপাত, পারিবারিক চাপ, উত্তরাধিকারীকে বঞ্চিত করার অভিপ্রায় কিংবা সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিজের ইচ্ছামতো পুনর্বণ্টনের চেষ্টা।
ফলে সন্তানকে সম্পদ দেওয়া হয়েছে—শুধু এই কথার ভিত্তিতে এর শরিয়াগত মূল্যায়ন করা যায় না; বরং সম্পদ দেওয়ার কারণ, উদ্দেশ্য, সময়, পদ্ধতি এবং এর পরিণতিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এ দৃষ্টিকোণ থেকে সন্তানকে হেবা করা কিংবা সম্পদ হস্তান্তরের ১২টি বাস্তব পরিস্থিতি এবং সেসবের শরিয়াগত অবস্থান সংক্ষেপে নিচে তুলে ধরা হলো—
১. দরিদ্র বা অসচ্ছল সন্তানকে প্রয়োজন পূরণের জন্য হেবা:
কোনো সন্তান আর্থিকভাবে অসচ্ছল, বেকার কিংবা জীবনের মৌলিক প্রয়োজন পূরণে অক্ষম হলে পিতা তাকে অর্থ, জমি, বাড়ি বা অন্য কোনো সম্পদ হেবা করতে পারেন। যেমন—তিন সন্তানের মধ্যে একজনের নিজস্ব বাড়ি নেই এবং তার আয়ও অত্যন্ত সীমিত; পিতা তাকে একটি ছোট বাড়ি বা জমি দিয়ে দিলেন।
এ ধরনের হেবার মূল উদ্দেশ্য যদি হয় সন্তানের প্রয়োজন পূরণ করা এবং তাকে স্বাবলম্বী করে তোলা, তাহলে এটিকে নিছক পক্ষপাতমূলক আচরণের সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক হবে না। কারণ সন্তানদের প্রয়োজন যদি সমান না হয়, তবে তাদের প্রতি সহায়তার পরিমাণও বাস্তবতার কারণে ভিন্ন হতে পারে।
২. অসুস্থ, প্রতিবন্ধী বা বিশেষ প্রয়োজনসম্পন্ন সন্তানকে অতিরিক্ত সম্পদ দেওয়া:
কোনো সন্তান দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কিংবা বিশেষ কোনো কারণে অন্য সন্তানদের তুলনায় বেশি আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন বোধ করলে পিতা তাকে অতিরিক্ত সম্পদ দিতে পারেন। যেমন—একজন সন্তানের ব্যয়বহুল চিকিৎসা প্রয়োজন, অথচ অন্য সন্তানরা সুস্থ ও স্বাবলম্বী; পিতা চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহের জন্য তাকে একটি জমি বা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ দিলেন।
এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দেওয়ার ভিত্তি যদি সন্তানের বিশেষ প্রয়োজন হয়, তাহলে তাকে নিছক ভালোবাসা, ব্যক্তিগত পছন্দ বা পক্ষপাতের কারণে কোনো একজন সন্তানকে বেশি দেওয়ার সঙ্গে অভিন্ন হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা ও পক্ষপাতমূলক হেবা—দুটির বাহ্যিক রূপ একই হলেও উদ্দেশ্য ও শরিয়াগত মূল্যায়নের জায়গা এক নয়।
৩. শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা বা দক্ষতা অর্জনের জন্য সম্পদ দেওয়া:
সন্তানের উচ্চশিক্ষা, বিদেশে পড়াশোনা, পেশাগত প্রশিক্ষণ কিংবা বিশেষ কোনো দক্ষতা অর্জনের জন্য পিতা তাকে অর্থ বা সম্পদ দিতে পারেন। যেমন—এক সন্তান উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাচ্ছে এবং তার বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন; পিতা তার শিক্ষার ব্যয় বহনের জন্য একটি জমি বিক্রি করে তাকে অর্থ দিলেন।
এ ধরনের ব্যয় অনেক সময় সাধারণ উপহারের চেয়ে সন্তানের প্রয়োজন পূরণের পর্যায়ে পড়ে। তবে শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের অজুহাতে যদি একজন সন্তানকে বিপুল সম্পদ দিয়ে অন্য সন্তানদের প্রতি স্পষ্ট বৈষম্য করা হয়, তাহলে বিষয়টি ভিন্নভাবে মূল্যায়নের দাবি রাখে।
৪. বিবাহ ও সংসার প্রতিষ্ঠার জন্য সম্পদ হস্তান্তর:
সন্তানের বিবাহ, বাসস্থান কিংবা সংসার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনেও পিতা সম্পদ দিতে পারেন। যেমন—মেয়ের বিবাহের পর তার নিজস্ব বাসস্থানের প্রয়োজন হওয়ায় পিতা তাকে একটি ফ্ল্যাট দিলেন; অথবা ছেলে বিয়ের পর ব্যবসা শুরু করবে বলে তাকে কিছু মূলধন দিলেন।
এ ধরনের সম্পদ দেওয়ার ক্ষেত্রে সন্তানের বাস্তব প্রয়োজন, সামাজিক পরিস্থিতি এবং অন্যান্য সন্তানদের অবস্থাও বিবেচনায় রাখা উচিত। বিবাহ বা সংসার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে দেওয়া সহায়তা আর উত্তরাধিকার কাঠামো পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে সম্পদ দিয়ে দেওয়া এক বিষয় নয়।
৫. জীবিকা, ব্যবসা বা কর্মসংস্থান প্রতিষ্ঠার জন্য হেবা:
কোনো সন্তানকে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে পিতা ব্যবসার মূলধন, দোকান, জমি, কৃষিজমি বা অন্য কোনো উৎপাদনশীল সম্পদ দিতে পারেন। যেমন—এক সন্তান চাকরি না করে ব্যবসা করতে চায়; পিতা তাকে একটি দোকান বা ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন দিয়ে দিলেন।
এর উদ্দেশ্য যদি হয় সন্তানের কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ জীবিকার ব্যবস্থা করা, তাহলে এটি সন্তানের প্রয়োজন ও কল্যাণের দিক থেকে বিবেচিত হতে পারে। তবে ব্যবসার অজুহাতে একজনকে বিপুল সম্পদ দিয়ে অন্য সন্তানদের একেবারে বঞ্চিত করার চেষ্টা হলে সন্তানদের মধ্যে ন্যায়বিচারের প্রশ্নটি সামনে আসবে।
৬. পিতামাতার সেবা বা পারিবারিক দায়িত্ব পালনের কারণে কোনো সন্তানকে বেশি দেওয়া:
কোনো সন্তান দীর্ঘদিন পিতামাতার সঙ্গে থেকে তাঁদের সেবা করেছে, অসুস্থতার সময় পাশে থেকেছে কিংবা পারিবারিক দায়িত্ব পালনে অন্যদের তুলনায় বেশি অবদান রেখেছে—এ কারণে পিতা তাকে কিছু অতিরিক্ত সম্পদ দিতে চাইতে পারেন। যেমন—চার সন্তানের মধ্যে একজন বহু বছর পিতামাতার দেখাশোনা করেছে; পিতা তাই তাকে একটি জমি দিয়ে দিলেন।
এখানে প্রথমেই দেখতে হবে, সম্পদটি কি হেবা, নাকি সন্তানের বাস্তব ব্যয় ও দায়িত্বের কোনো প্রতিদান বা পারিশ্রমিক। নিছক ‘সে আমার বেশি সেবা করেছে’—এই যুক্তিতে অন্য সন্তানদের অধিকার ও পারিবারিক ন্যায়বিচারের বিষয়টি উপেক্ষা করা যথার্থ নয়।
৭. নিছক ভালোবাসা, ঘনিষ্ঠতা বা ব্যক্তিগত পছন্দের কারণে একজনকে বেশি দেওয়া:
কখনো পিতা কোনো একটি সন্তানকে বেশি ভালোবাসেন, তার সঙ্গে বেশি ঘনিষ্ঠ অথবা তার স্বভাব-চরিত্রকে বেশি পছন্দ করেন। এ কারণে তিনি অন্য সন্তানদের তুলনায় তাকে বেশি সম্পদ দিয়ে দিতে পারেন। যেমন—তিন সন্তানের মধ্যে ছোট ছেলেটিকে পিতা বেশি পছন্দ করেন বলে তাকে একটি মূল্যবান জমি দিয়ে দিলেন, অথচ অন্য সন্তানদের কোনো বিশেষ কারণ ছাড়াই কম দিলেন।
এ ক্ষেত্রে সন্তানের প্রয়োজনের পরিবর্তে ব্যক্তিগত পছন্দ যদি বৈষম্যের কারণ হয়, তাহলে সন্তানদের মধ্যে ন্যায়বিচার ও সমতার বিষয়ে শরিয়তের নির্দেশনা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।
৮. কোনো সন্তানকে নিজের প্রতি অনুগত, ঘনিষ্ঠ বা নির্ভরশীল রাখার উদ্দেশ্যে সম্পদ দেওয়া:
কখনো পিতা সম্পদকে সন্তানের আনুগত্য বা সহযোগিতা নিশ্চিত করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। যেমন—কোনো সন্তান পিতার সঙ্গে থাকে বলে পিতা তাকে সম্পত্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, যাতে সে ভবিষ্যতেও তাঁর দেখাশোনা করে বা তাঁর কথা মেনে চলে। আবার কখনো সন্তানকে নিজের প্রতি অনুগত রাখার জন্য জীবদ্দশায় তার নামে জমি লিখে দেওয়া হতে পারে।
বাহ্যিকভাবে এটি হেবা হলেও এর উদ্দেশ্য, শর্ত এবং এর ফলে অন্য সন্তানদের প্রতি ন্যায়বিচার ক্ষুণ্ন হচ্ছে কি না—তা আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
৯. ভবিষ্যৎ বিরোধ এড়াতে জীবিত অবস্থায় সম্পদ ভাগ করে দেওয়া:
কোনো পিতা আশঙ্কা করতে পারেন যে তাঁর মৃত্যুর পর সন্তানদের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হবে। তাই তিনি জীবিত অবস্থায় সন্তানদের মধ্যে সম্পদ বণ্টন করে দিতে চাইতে পারেন। যেমন—পিতা সন্তানদের ডেকে প্রত্যেকের জন্য নির্দিষ্ট জমি আলাদা করে দিলেন এবং প্রত্যেককে তার দখলও বুঝিয়ে দিলেন।
এ ক্ষেত্রে বিষয়টি উত্তরাধিকার বণ্টন নয়; বরং জীবদ্দশার হেবা হিসেবে বিবেচিত হবে, যদি হেবার প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হয়। তবে জীবদ্দশায় হেবা করা মানেই ইচ্ছামতো সন্তানদের মধ্যে বৈষম্য করা যাবে—এমন নয়; সন্তানদের প্রতি ন্যায়বিচারের প্রশ্ন এখানেও গুরুত্বপূর্ণ।
১০. ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকার কাঠামোকে প্রভাবিত করার জন্য আগাম সম্পদ হস্তান্তর:
কখনো পিতা মনে করেন, তাঁর মৃত্যুর পর শরিয়তের নির্ধারিত মিরাসের বণ্টনে কোনো সন্তান তাঁর প্রত্যাশিত পরিমাণ সম্পদ পাবে না। তাই তিনি জীবিত অবস্থায় তাকে অতিরিক্ত সম্পদ দিয়ে যেতে চান। যেমন—এক পিতা মনে করলেন, তাঁর মেয়ে ভবিষ্যতে আর্থিকভাবে দুর্বল থাকবে; তাই জীবিত অবস্থায় তাকে একটি বাড়ি দিয়ে দিলেন।
প্রকৃত হেবা হিসেবে এটি সম্পন্ন হলে এর বিধান উত্তরাধিকার থেকে আলাদা; কিন্তু পিতার উদ্দেশ্য যদি হয় মিরাসের বিধানকে পাশ কাটিয়ে নিজের পছন্দমতো উত্তরাধিকার নির্ধারণ করা, তাহলে বিষয়টি অনেক বেশি সূক্ষ্মভাবে বিচার করতে হবে।
১১. কোনো উত্তরাধিকারীকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে সম্পদ হেবা করা:
এটি সন্তানকে সম্পদ হস্তান্তরের সবচেয়ে স্পর্শকাতর পরিস্থিতিগুলোর একটি।
কোনো পিতা যদি জীবিত অবস্থায় তাঁর সম্পদ এমনভাবে হেবা করেন যে, তাঁর মৃত্যুর পর নির্দিষ্ট কোনো সন্তান বা অন্য উত্তরাধিকারী সেই সম্পদ থেকে কিছুই পাবে না—তাহলে শুধু দলিলের ভাষা দেখে বিষয়টির বিচার করা যথেষ্ট নয়। যেমন—পিতা তাঁর প্রায় সমুদয় জমি এক ছেলের নামে হেবা করে দিলেন এবং স্পষ্টভাবে বললেন, “আমি চাই, আমার মৃত্যুর পর অন্য সন্তানরা যেন এ সম্পত্তিতে কোনো অংশ না পায়।”
এখানে হেবাটি বাস্তবে সম্পন্ন হয়েছে কি না, দখল হস্তান্তর হয়েছে কি না, পিতা তখন সুস্থ ছিলেন কি না এবং এর উদ্দেশ্য উত্তরাধিকারীদের বঞ্চিত করা কি না—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
১২. মৃত্যুভয়জনিত অসুস্থতার সময় উত্তরাধিকারীদের বাদ দিয়ে সম্পদ হস্তান্তর:
কোনো ব্যক্তি যখন এমন গুরুতর অসুস্থতায় আক্রান্ত হন, যাতে সাধারণভাবে তাঁর মৃত্যুর আশঙ্কা প্রবল হয়ে ওঠে, তখন তাঁর সম্পদ হস্তান্তরকে সুস্থ অবস্থায় করা সাধারণ হেবার সঙ্গে এক করে দেখা যায় না। যেমন—এক পিতা গুরুতর অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর অধিকাংশ সম্পত্তি এক সন্তানকে দিয়ে দিলেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হলো।
এ ক্ষেত্রে মারাদুল মাওত, হেবা ও ওসিয়তের মধ্যকার পার্থক্য এবং অন্যান্য উত্তরাধিকারীর অধিকার—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। বিশেষত মৃত্যুর আশঙ্কাজনিত অবস্থায় কোনো উত্তরাধিকারীকে সম্পদ দেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ হেবার বিধান সরাসরি প্রয়োগ করা যথাযথ নাও হতে পারে।
উপরের পরিস্থিতিগুলো পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়,
সন্তানকে সম্পদ দেওয়া—এই একটি বাক্যের মধ্যে ফিকহি দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতির বহু কাজ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। কোনোটি সন্তানের প্রয়োজন পূরণের জন্য স্বাভাবিক সহায়তা, কোনোটি হেবা, কোনোটি ব্যয় বা উপকারের প্রতিদান, কোনোটি সম্পদ ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত; আবার কোনোটি হতে পারে উত্তরাধিকারীদের বঞ্চিত করার একটি পরিকল্পনা।
তাই কোনো সম্পদ হস্তান্তরের শরিয়াগত অবস্থান নির্ধারণে অন্তত পাঁচটি প্রশ্ন সামনে রাখা প্রয়োজন—
কী দেওয়া হয়েছে?—নগদ অর্থ, জমি, বাড়ি, ব্যবসা নাকি অন্য কোনো সম্পদ?
কেন দেওয়া হয়েছে?—প্রয়োজন, ভালোবাসা, সেবা, ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা, নাকি বঞ্চনার উদ্দেশ্যে?
কখন দেওয়া হয়েছে?—সুস্থ অবস্থায়, নাকি মৃত্যুভয়জনিত অসুস্থতায়?
কীভাবে দেওয়া হয়েছে?—প্রকৃত হেবা ও দখল হস্তান্তর হয়েছে, নাকি শুধু কাগজে-কলমে মালিকানা বদলানো হয়েছে?
এর পরিণতি কী?—অন্য সন্তানদের প্রতি অন্যায় বৈষম্য বা উত্তরাধিকারীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্য এতে নিহিত আছে কি না?
অতএব,
হেবার বৈধতা আর হেবার নৈতিকতা—দুটি বিষয়কে এক করে দেখা উচিত নয়; আবার বাহ্যিকভাবে বৈধ দেখালেই কোনো সম্পদ হস্তান্তর শরিয়তের দৃষ্টিতে ন্যায়সংগত হয়ে যায় না।
বিশেষ করে সন্তানদের মধ্যে হেবা করার ক্ষেত্রে পিতার মালিকানার অধিকার যেমন বিবেচ্য, তেমনি সন্তানদের প্রতি ন্যায়বিচার, হেবার প্রকৃতি, দখল হস্তান্তর এবং ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকারীদের অধিকারও বিবেচনার দাবি রাখে।