আজ ফেসবুক খুলতেই এমন একটি বক্তব্য চোখে পড়ল, যা স্বাভাবিকভাবেই বেশ দৃষ্টি আকর্ষণ করে—“পুরো কওমী যদি কোনো সময় জামায়াতে যোগ দেয়, তো সব গুমরাহ।”
বক্তব্যটি বাইতুল মুকাররমের সম্মানিত খতীব মুফতী আবদুল মালিক (হাফি.)-এর বক্তব্য হিসেবে প্রচারিত হচ্ছে। এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে অনেকে তাঁকে নিয়ে ট্রল ও বিদ্রূপে মেতে উঠেছেন। একজন সম্মানিত বয়োজ্যেষ্ঠ আলিমের কোনো বক্তব্যের সঙ্গে মতভেদ থাকলেও তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে উপহাস বা ট্রলের বিষয় বানানো কোনোভাবেই সমীচীন নয়।
তবে প্রচারিত বক্তব্যটি যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, তা মুফতী সাহেবের মতো একজন বিজ্ঞ আলিমের সামগ্রিক চিন্তা ও বক্তব্যের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—সে প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই মনে জাগে। এটি যদি সত্যিই তাঁর বক্তব্য হয়ে থাকে, তাহলে সম্পূর্ণ বক্তব্যের প্রেক্ষাপট জানা জরুরি।
কারণ,
অনেক সময় দীর্ঘ বক্তব্য থেকে বিচ্ছিন্ন একটি বাক্য বা ‘কাটপিস’ বক্তব্য এমন একটি অর্থ তৈরি করে, যা বক্তার প্রকৃত অভিপ্রায়ের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। সুতরাং কোনো আলিমের বক্তব্যের মূল্যায়নে পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা ইলমি ন্যায়বিচারেরই দাবি।
তবু যদি ধরে নেওয়া হয় যে, বক্তব্যটি তিনি সচেতনভাবেই বলেছেন, তাহলে কয়েকটি প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে।
প্রথমত,
‘পুরো কওমী কোনো একসময় জামায়াতে যোগ দিতে পারে’—এমন একটি সম্ভাবনার কথা তাঁর বক্তব্যে কেন এভাবে উঠে এলো, সেটি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
এটি কি কওমী অঙ্গনের প্রতি তাঁর আস্থা ও প্রত্যাশার জায়গায় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত, নাকি বর্তমানে কিছু কওমী আলিমের জামায়াতে যোগদানের প্রবণতা নিয়ে তাঁর উদ্বেগের বহিঃপ্রকাশ?
নাকি বক্তব্যটির পেছনে আরও কোনো নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট বা প্রবণতার প্রতি সতর্ক করার উদ্দেশ্য রয়েছে?
পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য ও প্রেক্ষাপট জানা গেলে বিষয়টি অধিকতর স্পষ্টভাবে বোঝা সম্ভব হবে।
দ্বিতীয়ত,
আমাদের প্রত্যেক দল, মত ও ঘরানার মধ্যেই কমবেশি চিন্তাগত ও আমলগত দুর্বলতা রয়েছে।
এখানে একটি মৌলিক পার্থক্যও মনে রাখা প্রয়োজন—‘গুমরাহি’ সাধারণত চিন্তা, বিশ্বাস বা মতাদর্শের বিচ্যুতির সঙ্গে সম্পর্কিত; আর ‘বিচ্যুতি’ শব্দটি সাধারণত নৈতিকতা, আচরণ, লেনদেন, আমল কিংবা দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে।
চিন্তাগত বিচ্যুতি নিঃসন্দেহে অধিকতর গুরুতর; তবে আমলগত দুর্বলতা ও বিচ্যুতি থেকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ মুক্ত থাকা বাস্তবে অত্যন্ত কঠিন।
তাই গুমরাহি, ভুল চিন্তা ও বিচ্যুতির সমালোচনা অবশ্যই প্রয়োজন। বরং সুস্থ সমালোচনা সংশোধনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু সেই সমালোচনার ভাষা হওয়া উচিত ইলমি, ন্যায়সংগত, দরদপূর্ণ ও গঠনমূলক—যাতে সংশোধনের পথ উন্মুক্ত হয়, বিভাজন আরও গভীর না হয়।
সমস্যা হলো,
আমরা অনেক সময় অন্যের ভুল খুব সহজে দেখতে পাই; কিন্তু নিজের এবং নিজের দল ও ঘরানার ভুলের ক্ষেত্রে আমাদের দৃষ্টিশক্তি যেন কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। অন্যের আত্মসমালোচনার দাবি আমরা জোরালোভাবে উত্থাপন করি, কিন্তু নিজেদের আত্মসমালোচনার প্রয়োজনীয়তা একই মাত্রায় অনুভব করি না। অথচ প্রকৃত ইলমি ও নৈতিক পরিশুদ্ধির জন্য অন্যের সমালোচনার চেয়েও আত্মসমালোচনা অধিক প্রয়োজন।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে আমার মনে হয়,
জামায়াতেরও চিন্তা ও কর্মকাণ্ডে এমন কিছু বিষয় থাকতে পারে—এবং বাস্তবেও রয়েছে—যেগুলো সমালোচনার দাবি রাখে।
একইভাবে কওমী অঙ্গনেও এমন অনেক চিন্তা, প্রবণতা ও কর্মকাণ্ড থাকতে পারে, যেগুলো আত্মসমালোচনা ও সংশোধনের দাবি রাখে।
অতএব প্রশ্নটি শুধু—“অন্যের কোথায় ভুল?”—এমন হওয়া উচিত নয়; বরং “আমাদের নিজেদের কোথায় ভুল?”—এই প্রশ্নটিও সমান গুরুত্বে সামনে আসা উচিত।
মুফতী সাহেব জামায়াতের বিভিন্ন চিন্তা ও কর্মকাণ্ডের যে বিষয়গুলোকে সমস্যাজনক মনে করেন, সেগুলোর সমালোচনা করা তাঁর অধিকার এবং একজন আলিম হিসেবে তা নিয়ে ইলমি আলোচনা করাও স্বাভাবিক।
কিন্তু একই সঙ্গে একটি নীতিগত প্রশ্ন উঠতেই পারে—নিজের ঘরানা বা বৃহত্তর কওমী অঙ্গনের চিন্তা ও কর্মকাণ্ডের যেসব বিষয় সমালোচনার দাবি রাখে, সেগুলো নিয়েও কি একই রকম স্পষ্ট ও প্রকাশ্য আত্মসমালোচনা হওয়া প্রয়োজন নয়?
এটি কোনো ব্যক্তিবিশেষকে অভিযুক্ত করার প্রশ্ন নয়; বরং সমালোচনার ক্ষেত্রে একই নীতির সর্বজনীন প্রয়োগের প্রশ্ন। বিশেষ করে কেউ যখন জাতীয় পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দায়িত্বে অধিষ্ঠিত থাকেন, তখন তাঁর বক্তব্যের ক্ষেত্রে এই নীতিগত সামঞ্জস্যের প্রত্যাশা আরও স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
তৃতীয়ত,
ব্যক্তিগতভাবে আমি কোনো দল বা ঘরানার আনুষ্ঠানিক সদস্য নই। কেউ কেউ মনে করেন, আমি জামায়াতের গুরুত্বপূর্ণ কোনো ব্যক্তি। বাস্তবতা হলো, আমি জামায়াতকে সচেতনভাবে সমর্থন করি; একই সঙ্গে অন্যান্য ইসলামী ব্যক্তি ও দলকেও ভালোবাসি, বিশেষত যাদের কর্মকাণ্ডে নিষ্ঠা ও সততার পরিচয় লক্ষ করি। তবে অন্যান্য অনেক ইসলামী দলের তুলনায় জামায়াতের কিছু অবস্থানকে আমি অধিক গ্রহণযোগ্য মনে করি—বিশেষ করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের কিছু দিক। কিন্তু এ পর্যন্ত জামায়াতের কোনো পদ-পদবি বা সাংগঠনিক দায়িত্বে আমি ছিলাম না এবং তাদের কাছ থেকে কোনো উল্লেখযোগ্য সুযোগ-সুবিধাও গ্রহণ করিনি।
বরং জামায়াতের যেসব কর্মকাণ্ড বা অবস্থান আমার কাছে সমালোচনাযোগ্য কিংবা অপছন্দনীয় মনে হয়েছে, সেগুলোও আমি বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে, তবে যথাসম্ভব দরদের সঙ্গে সমালোচনা করেছি। সামাজিক গণমাধ্যমে ‘বাইরের জানালা থেকে এক ঝলক’ শিরোনামে ধারাবাহিকভাবেও তাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লিখেছি। এমনকি আজও তাদের ‘মজলিসুল মুফাসসিরীন’ নিয়েও আমার সমালোচনা প্রকাশ করেছি। এ কারণে তাদের কেউ কেউ আমার প্রতি বিরক্তও হয়েছেন।
অতএব,
কোনো দলের প্রতি সমর্থন থাকা এবং তার প্রতিটি চিন্তা ও কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করা—এ দুটিকে এক করে দেখা ঠিক হবে না। সমর্থন ও সমালোচনা একই সঙ্গে থাকতে পারে; বরং কোনো বিষয়ে সমর্থন থাকলেও ভুলের ক্ষেত্রে সমালোচনার স্বাধীনতা থাকা উচিত।
চতুর্থত,
‘গুমরাহি’ শব্দটি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় রাখা দরকার—সব গুমরাহি এক স্তরের নয়। ঈমান ও আকীদার আলোচনায় কুফর ও নিফাকেরও বিভিন্ন স্তর ও প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা রয়েছে—যেমন ‘কুফরুন দুনা কুফর’ ও ‘নিফাকুন দুনা নিফাক’-এর ধারণা। অর্থাৎ কোনো একটি পরিভাষা ব্যবহৃত হলেই তার সব প্রয়োগকে একই মাত্রার বলে গণ্য করা যায় না।
একইভাবে কোনো ব্যক্তি, দল বা মতের কোনো নির্দিষ্ট ভুলকে ‘গুমরাহি’ বলা হলে তার প্রকৃতি, মাত্রা, পরিসর ও প্রভাব নির্ধারণ করাও জরুরি। যদি ধরে নেওয়া হয় যে, জামায়াতের কিছু চিন্তা বা কর্মকাণ্ডে গুমরাহি কিংবা বিচ্যুতি রয়েছে, তাহলেও প্রশ্ন থাকবে—তার প্রকৃতি কী, মাত্রা কতটুকু এবং অন্যান্য প্রচলিত মতাদর্শের তুলনায় তার অবস্থান কোথায়?
বিশেষত ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো ইসলামী পরিচয়ধারী দলের কিছু ভুল-বিচ্যুতিকে যদি গুমরাহি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তাহলে একই মানদণ্ডে প্রকাশ্য ধর্মনিরপেক্ষতা, নাস্তিক্যবাদ, উদারতাবাদ, চরম বস্তুবাদ, আধুনিকতাবাদ, উত্তরাধুনিকতাবাদ কিংবা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অন্যান্য মতাদর্শ এবং তাদের অনুসারীদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে, বরং আরও কঠোরভাবে বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
কারণ,
সমালোচনার মাত্রা নির্ধারণে শুধু ‘কে কোন ঘরানার’—এটি বিবেচ্য হওয়া উচিত নয়; বরং কোন বক্তব্য বা বিশ্বাস ইসলামের কোন মৌলিক নীতির সঙ্গে কতটা সাংঘর্ষিক—সেটিও বিবেচনায় থাকা প্রয়োজন।
এখানেই একটি বৃহত্তর নীতিগত প্রশ্ন আসে: আমরা কি ব্যক্তি ও দলের পরিচয়ের ভিত্তিতে সমালোচনার মাত্রা নির্ধারণ করব, নাকি একই ইলমি মানদণ্ড সবার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করব?
জামায়াতের গুমরাহি বা বিচ্যুতির বিষয়ে যদি যে মাত্রার সতর্কতা ও উচ্চকণ্ঠ সমালোচনা প্রয়োজন মনে করা হয়, ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস ও মূল্যবোধের সঙ্গে আরও গভীরভাবে সাংঘর্ষিক অন্য মতাদর্শের ক্ষেত্রেও কি অনুরূপ—বরং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও জোরালো—সতর্কতা ও সমালোচনা প্রত্যাশিত নয়?
অন্তত নীতিগতভাবে তো সমালোচনার মানদণ্ডটি সবার জন্য অভিন্ন হওয়া উচিত।
অর্থাৎ প্রশ্নটি কোনো ব্যক্তি বা বিশেষ দলের বিরুদ্ধে কে কতটা কথা বলেছেন—এমন নয়; বরং ইসলামী মানদণ্ডে কোন বিচ্যুতি কতটা গুরুতর এবং সেই অনুপাতে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও দাওয়াহগত প্রতিক্রিয়া কতটা ভারসাম্যপূর্ণ—মূল প্রশ্নটি হওয়া উচিত সেখানে।
পঞ্চমত,
একজন আলিমের মর্যাদা ও ইলমি অবদানকে সম্মান করা এবং তাঁর প্রতিটি মতকে প্রশ্নাতীতভাবে সঠিক মনে করা—দুটি এক বিষয় নয়।
মুফতী আবদুল মালিক (হাফি.) নিঃসন্দেহে একজন সম্মানিত আলিম; কিন্তু তাঁর প্রতিটি চিন্তা যে চূড়ান্তভাবে সঠিক—এমন নিশ্চয়তা দেওয়ার এখতিয়ার কোনো মানুষের নেই। কারণ, আলিমগণের মধ্যেও মতভেদ হয়েছে, হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে।
বিশেষ করে ইমামগণের মতভেদপূর্ণ বিষয়গুলোতে আমি ব্যক্তিগতভাবে নিজের মতকে একান্ত ও চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করতে বরাবরই সতর্ক থাকি। কোনো বিষয়ে আমার কাছে একটি মত অধিকতর সঠিক মনে হতে পারে; অন্যের কাছে সেটিই হয়তো অধিকতর গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।
একই বিষয়কে ভিন্ন ব্যক্তি ভিন্ন জ্ঞানতাত্ত্বিক, ঐতিহাসিক বা বাস্তবিক প্রেক্ষাপট থেকে বিবেচনা করতে পারেন; ফলে তাঁদের ব্যাখ্যা ও সিদ্ধান্তেও পার্থক্য দেখা দিতে পারে।
সুতরাং কোনো আলিমের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করা তাঁর প্রতি অসম্মান নয়; যেমন কোনো আলিমকে সম্মান করা তাঁর প্রতিটি মতকে প্রশ্নাতীতভাবে গ্রহণ করারও অর্থ নয়। ইলমি আদবের দাবি হলো—ব্যক্তির মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে বক্তব্যের যৌক্তিকতা, প্রমাণ, প্রেক্ষাপট ও পরিণতি নিয়ে আলোচনা করা।
আমার বক্তব্যের উদ্দেশ্য মুফতী আবদুল মালিক (হাফি.)-এর ব্যক্তিগত সমালোচনা করা নয়; বরং তাঁর নামে প্রচারিত একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে যে বৃহত্তর নীতিগত প্রশ্নগুলো সামনে এসেছে, সেগুলো নিয়ে কিছু কথা বলা।
তাঁর মতো একজন সম্মানিত আলিমের বক্তব্য যদি সত্যিই এমন হয়ে থাকে, তবে তার পূর্ণ প্রেক্ষাপট জানা প্রয়োজন; আর যদি বক্তব্যটি খণ্ডিত বা প্রেক্ষাপটবিচ্ছিন্নভাবে প্রচারিত হয়ে থাকে, তবে সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
সবশেষে মনে রাখা দরকার—
অন্যের ভুল শনাক্ত করা সহজ; নিজের ভুল শনাক্ত করা কঠিন। কিন্তু ইলমি সততা শুরু হয় নিজের ঘরানা, নিজের চিন্তা এবং নিজের অবস্থানকেও একই নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মানদণ্ডে বিচার করার সাহস থেকে।
আমাদের প্রয়োজন পরস্পরকে বাতিল করার সংস্কৃতি নয়, নির্বিচারে একে অপরকে ‘গুমরাহ’ আখ্যায়িত করার প্রবণতাও নয়; বরং পরস্পরের ভুল চিহ্নিত করে সংশোধনের সুযোগ তৈরি করা—সম্মান, ইনসাফ, ইলমি শৃঙ্খলা, আত্মসমালোচনা ও পারস্পরিক সৌজন্য বজায় রেখে।