বাংলাদেশে ইসলামী জ্ঞানচর্চা ও ধর্মীয় শিক্ষার দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্য থাকলেও প্রাতিষ্ঠানিক, মৌলিক, দীর্ঘমেয়াদি ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ইসলামী গবেষণার জন্য এখনো কোনো শক্তিশালী, সুসংহত ও টেকসই গবেষণা-অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি।

বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ থাকলেও তা এখনো এমন একটি সুসংহত গবেষণা-পরিবেশ গড়ে তুলতে পারেনি, যা নতুন জ্ঞান উৎপাদনে ধারাবাহিকতা সৃষ্টি করবে, সমকালীন সমস্যার ইসলামী বিশ্লেষণ ও সমাধান উপস্থাপন করবে এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষক ও গবেষণা-প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবে।

এই ঘাটতি বিশেষভাবে অনুভূত হয় ইসলামী আইন ও বিচার-এর ক্ষেত্রে।

আধুনিক রাষ্ট্রের আইন, বিচার, প্রশাসন, অর্থনীতি, পরিবার, মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং প্রযুক্তিনির্ভর নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অসংখ্য প্রশ্নের ইসলামী সমাধান অনুসন্ধানে কেবল প্রচলিত ফিকহি গ্রন্থের পাঠ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন তুলনামূলক ও আন্তঃবিষয়ক গবেষণা, সমকালীন আইনব্যবস্থার গভীর অধ্যয়ন এবং নতুন বাস্তবতার আলোকে ইসলামী আইনচিন্তার সৃজনশীল প্রয়োগ।

অর্থাৎ, এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন এমন গবেষণা, যা একদিকে ইসলামী আইনশাস্ত্রের ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে, অন্যদিকে সমকালীন আইন ও সমাজবাস্তবতার সঙ্গেও কার্যকর সংলাপ স্থাপন করবে।

রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের সীমাবদ্ধতা ও বেসরকারি উদ্যোগের প্রয়োজন:

রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে একসময় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ইসলামী গবেষণা, অনুবাদ, সম্পাদনা ও প্রকাশনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। অভিধান, বিশ্বকোষ, গবেষণাগ্রন্থ ও অনুবাদ-প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশের ইসলামী জ্ঞানচর্চায় একটি উল্লেখযোগ্য বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্য নির্মাণে অবদান রেখেছে।

তবে গত প্রায় দেড় দশকে মৌলিক গবেষণা, দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা-প্রকল্প, গবেষক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের একাডেমিক উদ্যোগ প্রত্যাশিত মাত্রায় দৃশ্যমান হয়নি; বিদ্যমান প্রবণতায় অদূর ভবিষ্যতেও এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির সম্ভাবনা খুব উজ্জ্বল বলে মনে হয় না।

ফলে এই শূন্যতা পূরণে বেসরকারি পর্যায়ের উদ্যোগের গুরুত্ব স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ইসলামিক ল’ রিসার্চ সেন্টার ইসলামী আইন, শরীআহ ও বিচারবিষয়ক গবেষণার ক্ষেত্রে একটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ও সম্ভাবনাময় উদ্যোগ।

‘ইসলামী আইন ও বিচার পত্রিকা’—একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন:

প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ধারাবাহিক কার্যক্রম হলো নিয়মিত ‘ইসলামী আইন ও বিচার পত্রিকা’ প্রকাশ। এটি শুধু ইসলামী আইন ও বিচারবিষয়ক গবেষণার জন্য একটি প্রকাশনা-পরিসর তৈরি করছে না; বরং আন্তর্জাতিক একাডেমিক মানদণ্ড অনুসরণেরও সচেতন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

জার্নালটির DOI (Digital Object Identifier) নিবন্ধন রয়েছে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইনডেক্সিং ব্যবস্থায় এর অন্তর্ভুক্তি রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক গবেষণা-পরিমণ্ডলে এর গ্রহণযোগ্যতা ও দৃশ্যমানতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে Scopus-এ অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। গবেষণার মান যাচাই, peer review, সম্পাদনা এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা-পরিসরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রেও জার্নালটিকে আরও উন্নত করার প্রচেষ্টা রয়েছে।

বাংলাদেশের সীমিত গবেষণা-অবকাঠামোর বাস্তবতায় এ উদ্যোগের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন গবেষণা-জার্নাল পরিচালনা কেবল নিয়মিত লেখা প্রকাশের বিষয় নয়; এর সঙ্গে গবেষণার মাননিয়ন্ত্রণ, peer review, সম্পাদনা, DOI ও indexing ব্যবস্থাপনা, গবেষকদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতার মতো একাধিক প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জড়িত।

সে বিবেচনায় ‘ইসলামী আইন ও বিচার পত্রিকা’ বাংলাদেশের ইসলামী আইন গবেষণাকে আন্তর্জাতিক একাডেমিক পরিসরের সঙ্গে সংযুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে।

এই অর্জনকে তাই কেবল একটি জার্নাল প্রকাশের সাফল্য হিসেবে দেখলে এর তাৎপর্য কিছুটা খাটো করে দেখা হবে। বরং এটিকে বাংলাদেশে ইসলামী আইন ও বিচারবিষয়ক একটি শক্তিশালী গবেষণা-প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সম্ভাবনাময় ভিত্তি হিসেবে দেখা যেতে পারে।

সম্ভাবনার পাশাপাশি বাস্তব সীমাবদ্ধতা:

তবে সম্ভাবনার সঙ্গে বাস্তব সীমাবদ্ধতাগুলোকেও স্বীকার করা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত অর্থায়ন, দক্ষ জনবল, গবেষণা অবকাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আর্থিক সক্ষমতার ঘাটতির কারণে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম এখনো কাঙ্ক্ষিত পরিসরে সম্প্রসারণ করা কঠিন। বিশেষ করে টেকসই পৃষ্ঠপোষকতার অভাব অনেক সম্ভাবনাময় গবেষণা ও প্রকল্পকে পরিকল্পনার পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখে কিংবা মাঝপথে থামিয়ে দেয়।

এই সমস্যাটি অবশ্য শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়; বাংলাদেশের ইসলামী গবেষণা ও প্রকাশনা-পরিসরের একটি বৃহত্তর বাস্তবতাও এর সঙ্গে জড়িত।

বিভিন্ন গবেষণা ও প্রকাশনা-উদ্যোগ অনেক সময় নির্দিষ্ট আদর্শিক, প্রাতিষ্ঠানিক বা সাংগঠনিক পরিসরের মধ্যে আবর্তিত হয়।

ফলে সেই পরিসরের বাইরে থাকা গবেষকদের মৌলিক কাজ প্রকাশ, প্রচার ও বৃহত্তর পাঠকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ অনেক সময় সীমিত হয়ে পড়ে। এর ব্যতিক্রম অবশ্যই রয়েছে; তবে স্বাধীন, উন্মুক্ত ও বহুমাত্রিক ইসলামী গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় একটি বিস্তৃত প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ এখনো পর্যাপ্তভাবে গড়ে ওঠেনি।

বৃহত্তর ইসলামী প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব:

এই প্রেক্ষাপটে দেশের বৃহৎ ইসলামী সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকাও নতুন করে ভাবা প্রয়োজন।

যেসব সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য শরীআহভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, তাদের রাজনৈতিক, সাংগঠনিক ও দাওয়াহভিত্তিক কার্যক্রম দৃশ্যমান হলেও শরীআহ, আইন ও বিচারবিষয়ক দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় বিনিয়োগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক পরিকল্পনা এখনো তুলনামূলকভাবে সীমিত।

অথচ শরীআহভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থার কোনো বাস্তব ও সমসাময়িক কাঠামো নির্মাণ করতে হলে তার একটি শক্তিশালী গবেষণাভিত্তিক বৌদ্ধিক ভিত্তি প্রয়োজন। কেবল তাত্ত্বিক দাবি বা আদর্শিক আকাঙ্ক্ষা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন প্রচলিত আইন ও ইসলামী আইনের তুলনামূলক অধ্যয়ন, আইন-সংস্কারের সম্ভাব্য মডেল, বিচারব্যবস্থার কাঠামো, সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিক আইনগত প্রশ্ন এবং সমকালীন আইনগত সমস্যার গবেষণাভিত্তিক সমাধান।

অতএব, ইসলামী আইন ও বিচার নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় বিনিয়োগকে বৃহত্তর ইসলামী প্রতিষ্ঠানগুলোরও তাদের ভবিষ্যৎ বৌদ্ধিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

পৃষ্ঠপোষকতার সংকট—গবেষণার বড় অন্তরায়:

মৌলিক গবেষণার অন্যতম বড় সমস্যা হলো এর বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা। একটি গবেষণাগ্রন্থ প্রস্তুত করতে বছরের পর বছর সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় হয়; অথচ তার আর্থিক প্রত্যাবর্তন সাধারণত অনিশ্চিত ও দীর্ঘমেয়াদি। ফলে বাজারনির্ভর প্রকাশনা-ব্যবস্থার ওপর এককভাবে নির্ভর করে মৌলিক গবেষণার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন।

এ কারণে মৌলিক গবেষণাকে টেকসই করতে প্রয়োজন গবেষণা তহবিল, গবেষণা-অনুদান, ওয়াক্‌ফভিত্তিক অর্থায়ন, ফাউন্ডেশন, এন্ডাউমেন্ট এবং প্রকল্পভিত্তিক পৃষ্ঠপোষকতার একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থা। বিশেষত ইসলামী আইন ও বিচারবিষয়ক গবেষণার মতো বিশেষায়িত ক্ষেত্রে এ ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা আরও গুরুত্বপূর্ণ; কারণ এখানে অনেক গবেষণার তাৎক্ষণিক বাজারমূল্য না থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে তার বৌদ্ধিক ও সামাজিক মূল্য অনেক বেশি হতে পারে।

সম্ভাবনাকে কার্যকর গবেষণা-পরিকাঠামোয় রূপ দেওয়ার সুযোগ:

যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা পেলে বাংলাদেশ ইসলামিক ল’ রিসার্চ সেন্টার এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা-কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। এর সম্ভাব্য কার্যক্রম হতে পারে—

• ইসলামী আইন ও বিচারবিষয়ক দীর্ঘমেয়াদি মৌলিক গবেষণা-প্রকল্প;

• তুলনামূলক ফিকহের বিভিন্ন বিষয়ে ধারাবাহিক গবেষণা;

• আধুনিক আইন ও ইসলামী আইনের তুলনামূলক বিশ্লেষণ;

• বাংলাদেশের প্রচলিত আইনসমূহের শরীআহভিত্তিক মূল্যায়ন;

• আইন-ইসলামিকরণ ও ইসলামী আইনসংগত আইন-সংস্কারের সম্ভাব্য মডেল নিয়ে গবেষণা;

• শরীআহভিত্তিক বিচারব্যবস্থার কাঠামো ও কার্যপ্রণালি নিয়ে গবেষণা;

• সমকালীন আইনগত সমস্যার ইসলামী সমাধান অনুসন্ধান;

• গবেষক ফেলোশিপ, গবেষণা-অনুদান ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি;

• আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা-জার্নাল ও গবেষণা-ডাটাবেস উন্নয়ন;

• দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা-প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা;

• আইন, ফিকহ, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিজ্ঞানের সমন্বয়ে আন্তঃবিষয়ক গবেষণা।

অর্থাৎ, প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাবনার ক্ষেত্র যথেষ্ট বিস্তৃত। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, দক্ষ জনবল, গবেষণা অবকাঠামো এবং সর্বোপরি টেকসই পৃষ্ঠপোষকতা।

কেন এখনই গবেষণায় বিনিয়োগ প্রয়োজন:

বর্তমান বিশ্বে ইসলামী আইন গবেষণার প্রয়োজনও বহুগুণ বেড়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বায়োএথিক্স, পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট, ইসলামিক ব্যাংকিং ও ফাইন্যান্স, মানবাধিকার, পরিবারব্যবস্থা, প্রযুক্তিনৈতিকতা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, বৈশ্বিক আইন এবং সমকালীন রাষ্ট্রচিন্তার মতো বহু ক্ষেত্রে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে মৌলিক, প্রমাণনির্ভর ও আন্তঃবিষয়ক গবেষণা প্রয়োজন।

এসব ক্ষেত্রে শুধু অতীতের মতামত পুনরুৎপাদন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন ইসলামী আইনশাস্ত্রের ঐতিহ্য ও সমকালীন বাস্তবতার মধ্যে একটি সৃজনশীল সংলাপ। এ ধরনের গবেষণার ফল শুধু একাডেমিক পরিসরে সীমাবদ্ধ থাকবে না; আইন প্রণয়ন, নীতি-নির্ধারণ, বিচারিক অনুশীলন এবং সমকালীন মানবসমস্যার সমাধান অনুসন্ধানেও তা ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশেরও এ ক্ষেত্রে অবদান রাখার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজন কেবল গবেষকের ব্যক্তিগত আগ্রহ নয়; তার সঙ্গে প্রয়োজন গবেষণার জন্য সময়, প্রতিষ্ঠান, অর্থায়ন, প্রকাশনা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের একটি কার্যকর কাঠামো।

প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ:

তাই বাংলাদেশের ইসলামী আইন ও বিচার গবেষণার এই প্রয়োজন পূরণে একক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর না করে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষক, ইসলামী প্রতিষ্ঠান, প্রকাশক, ওয়াক্‌ফ প্রতিষ্ঠান, দাতব্য সংস্থা, শিল্পোদ্যোক্তা এবং সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ইসলামিক ল’ রিসার্চ সেন্টার ইতোমধ্যে যে ভিত্তি তৈরি করেছে, যথাযথ সহযোগিতা পেলে তা আরও বিস্তৃত গবেষণা-অবকাঠামোয় রূপ নিতে পারে। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনা, গবেষণা-তহবিল, দক্ষ জনবল, ফেলোশিপ, প্রকল্পভিত্তিক অনুদান এবং স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতা।

ইসলামী আইন ও বিচার নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী একাডেমিক ভিত্তি নির্মাণ করতে হলে আজকের গবেষণায় বিনিয়োগের বিকল্প নেই। এই বিনিয়োগ কেবল একটি প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করা নয়; বরং বাংলাদেশের ইসলামী আইন গবেষণার ভবিষ্যৎ, নতুন জ্ঞান উৎপাদন এবং একটি টেকসই একাডেমিক ঐতিহ্য নির্মাণে বিনিয়োগ।

যাঁরা এ প্রয়োজন উপলব্ধি করেন, তাঁদের প্রতি আহ্বান—

বাংলাদেশ ইসলামিক ল’ রিসার্চ সেন্টারকে কেবল একটি প্রকাশনা-উদ্যোগ হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের ইসলামী আইন ও বিচার গবেষণার একটি সম্ভাবনাময় প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করুন। গবেষণা-অনুদান, ওয়াক্‌ফ, এন্ডাউমেন্ট, প্রকল্পভিত্তিক অর্থায়ন কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার মাধ্যমে এ উদ্যোগকে শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে।

একটি গবেষণা-প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখা আর একটি কার্যকর গবেষণা-সংস্কৃতি নির্মাণ—দুটি এক বিষয় নয়। কোনো প্রতিষ্ঠানকে কেবল সচল রাখলে তার নিয়মিত কার্যক্রম হয়তো অব্যাহত থাকতে পারে; কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা-প্রকল্প, নতুন গবেষক তৈরি, মৌলিক জ্ঞান উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা-পরিসরের সঙ্গে স্থায়ী সংযোগ গড়ে তুলতে হলে প্রয়োজন একটি টেকসই গবেষণা-পরিবেশ।

সেই অর্থে আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু একটি প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখা নয়; এমন একটি গবেষণা-পরিকাঠামো নির্মাণ করা, যেখানে ব্যক্তি বা সাময়িক উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গবেষণা চলবে, নতুন গবেষক তৈরি হবে এবং ইসলামী আইন ও বিচারবিষয়ক জ্ঞানচর্চা ধারাবাহিকভাবে সমৃদ্ধ হবে।

বাংলাদেশ ইসলামিক ল’ রিসার্চ সেন্টারকে সেই বৃহত্তর গবেষণা-সংস্কৃতি নির্মাণের একটি কার্যকর কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ এখনো রয়েছে।

এজন্য প্রয়োজন কেবল তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা নয়; প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠপোষকতা, গবেষণা-তহবিল, ওয়াক্‌ফ ও এন্ডাউমেন্টভিত্তিক অর্থায়ন এবং গবেষণার প্রতি একটি সুসংগঠিত সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার।

আজ এই উদ্যোগে যে বিনিয়োগ করা হবে, তার সুফল কেবল একটি প্রতিষ্ঠান বা একটি প্রজন্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং তা ভবিষ্যৎ গবেষক, গবেষণা-প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশের ইসলামী আইন ও বিচারবিষয়ক জ্ঞানচর্চার দীর্ঘমেয়াদি বিকাশে অবদান রাখবে।