বিশ্ববিদ্যালয় মূলত জ্ঞানচর্চা, জ্ঞানসৃজন ও জ্ঞান বিতরণের প্রতিষ্ঠান। এর প্রধান শক্তি শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থী।

একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের মৌলিক দায়িত্ব হলো মানসম্মত পাঠদান, গবেষণা এবং শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে অবদান রাখা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ; তবে তার প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিত একাডেমিক কার্যক্রমকে সহায়তা ও গতিশীল করা।

অথচ বাংলাদেশের অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তবতায় কখনো কখনো মনে হয়,

শিক্ষকতা ও গবেষণার চেয়ে প্রশাসনিক পদ-পদবি অর্জনই অধিক আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এসব পদকে কেন্দ্র করে কোথাও কোথাও অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও দলীয় বলয়ভিত্তিক রাজনীতিও লক্ষ করা যায়।

কে উপাচার্য, কে উপ-উপাচার্য, কে ডিন, কে প্রভোস্ট, কে প্রক্টর বা সহকারী প্রক্টর, কে ছাত্র উপদেষ্টা কিংবা কোন শিক্ষক গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সভাপতি—এসব নিয়ে যতটা আলোচনা হয়, একজন শিক্ষক কতটা মানসম্মত পাঠদান করছেন, তাঁর গবেষণার অগ্রগতি কতটুকু কিংবা শিক্ষার্থীদের জ্ঞানগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে তাঁর অবদান কতটা—এসব প্রশ্ন ততটা গুরুত্ব পায় বলে মনে হয় না।

কোনো শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন কি না, পাঠদানের মান কেমন, কিংবা নিজের ও শিক্ষার্থীদের জ্ঞান-গবেষণার বিকাশে কতটা মনোযোগী—এসব বিষয়ে কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গেলেও অনেক সময় নানা জটিলতা দেখা দেয়।

এ পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রাধিকার ও একাডেমিক মূল্যবোধ নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।

একজন শিক্ষককে একই সঙ্গে ডিন, প্রভোস্ট, হাউজ টিউটর, প্রক্টর, সহকারী প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা, বিভিন্ন তদন্ত ও ক্রয় কমিটি, ভর্তি কার্যক্রম, পরীক্ষা পরিচালনা কিংবা নানা অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্ব পালন করতে হয়। এসব দায়িত্বের অনেকগুলোই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয়।

সমস্যা দায়িত্বগুলোর অস্তিত্বে নয়; বরং দায়িত্ব বণ্টনের যৌক্তিকতা, সময়ের ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষকতা ও গবেষণার ওপর সেগুলোর প্রভাব যথাযথভাবে বিবেচিত হচ্ছে কি না—তা নিয়ে।

কখনো একজন শিক্ষককে একাধিক প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়; আবার কাউকে দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে নিয়োজিত রাখা হয়। কারও কারও ক্ষেত্রে প্রশাসনিক পদে থাকার ধারাবাহিকতা বা নতুন পদ লাভের আকাঙ্ক্ষাই যেন পেশাগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গে পরিণত হয়। অথচ এসব দায়িত্ব পালনে একজন শিক্ষকের উল্লেখযোগ্য সময় ও মনোযোগ ব্যয় হওয়াই স্বাভাবিক।

ফলে পাঠ প্রস্তুতি, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাডেমিক যোগাযোগ, গবেষণাপত্র রচনা, গবেষণা পরিচালনা এবং শিক্ষার্থীদের তত্ত্বাবধানের জন্য প্রয়োজনীয় সময় সংকুচিত হতে পারে। বিশেষত গবেষণার জন্য যে নিরবচ্ছিন্ন মনোযোগ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন, দৈনন্দিন প্রশাসনিক ব্যস্ততার মধ্যে তা বজায় রাখা কঠিন।

আবাসিক হলের প্রভোস্ট বা হাউজ টিউটরের দায়িত্বের কথাই ধরা যাক। তাঁদের আবাসন, আসন বরাদ্দ, খাবারের মান, নিরাপত্তা, কর্মচারী ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামোগত সমস্যা, অভিযোগ নিষ্পত্তি ও নানা ধরনের দাবি-দাওয়া সামলাতে হয়।

এসব কাজ শিক্ষার্থীদের কল্যাণের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও সবকিছু একজন শিক্ষকের নিজস্ব পেশাগত দক্ষতার আওতাভুক্ত নয়। এ ধরনের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজের জন্য প্রশিক্ষিত পেশাদার জনবল নিয়োগ করা গেলে শিক্ষকদের মূল দায়িত্ব পালনের সুযোগ বাড়তে পারে।

শিক্ষকতা ও প্রশাসন পরস্পর সম্পর্কিত হলেও দুটি স্বতন্ত্র দক্ষতানির্ভর ক্ষেত্র। একজন ভালো শিক্ষক হলেই তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দক্ষ প্রশাসক হয়ে উঠবেন, এমন ধারণার যৌক্তিক ভিত্তি নেই। একইভাবে, একজন দক্ষ প্রশাসকও যে ভালো শিক্ষক হবেন, তার নিশ্চয়তা নেই।

আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনায় একাডেমিক নেতৃত্ব ও পেশাদার প্রশাসনের মধ্যে যথাযথ দায়িত্ববিভাজন ও সমন্বয় তাই গুরুত্বপূর্ণ।

একাডেমিক নীতি নির্ধারণ, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, গবেষণার অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং শিক্ষার মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শিক্ষক ও গবেষকদের নেতৃত্ব অপরিহার্য। অন্যদিকে, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, আবাসন, পরিবহন, নিরাপত্তা, অবকাঠামো ও দৈনন্দিন শিক্ষার্থীসেবার মতো কাজে প্রশিক্ষিত প্রশাসনিক জনবল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও প্রয়োজন ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় এ ধরনের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। লক্ষ্য শিক্ষকদের প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করা নয়; বরং তাঁদের একাডেমিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ বাড়ানো, একাডেমিক দক্ষতা ও উৎকর্ষ বৃদ্ধিতে সহায়তা করা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক করে তোলা।

সমস্যার আরেকটি দিক হলো,

প্রশাসনিক পদ কখনো কখনো দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রের পরিবর্তে ব্যক্তিগত মর্যাদা, প্রভাব ও সুযোগ-সুবিধা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। কোনো কোনো পদে বিশেষ সম্মানী, ভাতা কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা যুক্ত থাকায় এগুলোকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়।

তখন প্রশ্ন ওঠে, ওই সব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রকৃত যোগ্যতা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজন কতটা বিবেচিত হচ্ছে। ব্যক্তিগত পছন্দ, দলীয় আনুগত্য, আঞ্চলিক পরিচয় কিংবা আত্মীয়তার সম্পর্ক নিয়োগের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে কি না—সে প্রশ্নও উপেক্ষা করা যায় না।

এ বিষয়টি শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গেও সম্পর্কিত। প্রশাসনিক পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাবকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতা তৈরি হলে নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় আনুগত্যের প্রভাব নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন ও সন্দেহ সৃষ্টি হয়। এ ধরনের প্রবণতা শিক্ষকদের স্বাধীন মতপ্রকাশ ও নীতিনিষ্ঠ অবস্থান গ্রহণের ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধক হয়ে ওঠে। তবে শিক্ষক রাজনীতির সব কারণকে প্রশাসনিক পদ ও সুযোগ-সুবিধার মধ্যে সীমাবদ্ধ করা যায় না; এর পেছনে আদর্শিক, পেশাগত ও বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতাও রয়েছে। তা সত্ত্বেও, প্রশাসনিক পদ যদি শিক্ষকসমাজে মর্যাদা ও পেশাগত সাফল্যের প্রধান মাপকাঠি হয়ে ওঠে, তাহলে শিক্ষকতার মৌলিক দায়িত্বের প্রতি আগ্রহ ও নিষ্ঠা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

প্রশাসনিক দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিভাগীয় সমন্বয়। কোনো শিক্ষককে উল্লেখযোগ্য সময়সাপেক্ষ অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার আগে তাঁর নিজ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। বাস্তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিক্ষককে প্রভোস্ট, প্রক্টর, সহকারী প্রক্টর, হাউজ টিউটর কিংবা অন্য কোনো প্রশাসনিক পদে নিয়োগ দেওয়ার পর বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ নিয়োগপত্রের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারে। অথচ ওই শিক্ষককে নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন, শিক্ষার্থী তত্ত্বাবধান, গবেষণা এবং অন্যান্য বিভাগীয় দায়িত্বও পালন করতে হয়।

এখানে একটি যৌক্তিক অসংগতি রয়েছে। কোনো শিক্ষক অন্য বিভাগে একটি কোর্স পড়াতে চাইলে তাঁর নিজ বিভাগের একাডেমিক পরিকল্পনা ও পাঠদানের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করা হয়। অথচ সপ্তাহের উল্লেখযোগ্য সময় ব্যয় করতে পারে—এমন প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে একই ধরনের সমন্বয় সব সময় দেখা যায় না।

নবীন শিক্ষককে প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়া যাবে না, এমন কোনো কথা নেই। যোগ্যতা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে তাঁকেও দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। তবে দায়িত্ব দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের দক্ষতা, কাজের পরিধি এবং তাঁর শিক্ষকতা ও গবেষণার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করা জরুরি। একজন শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের অল্প সময়ের মধ্যেই প্রশাসনিক পদে নিয়োগ পেলে তাঁর যোগ্যতা ও নিয়োগের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে—বিশেষত যখন নিয়োগের মানদণ্ড স্পষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে বিভাগীয় প্রধানের মতামত নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী একাডেমিক কমিটির সঙ্গে আলোচনা করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

একই সঙ্গে প্রশাসনিক দায়িত্বকে নিয়মিত ক্লাস, মূল্যায়ন কিংবা বিভাগীয় কাজ এড়িয়ে যাওয়ার অজুহাত হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ থাকা উচিত নয়। দায়িত্বের মেয়াদ, কাজের পরিধি ও জবাবদিহি স্পষ্ট করতে হবে। প্রশাসনিক পদ শুধু সুযোগ-সুবিধা ভোগের বিষয় নয়; এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শিক্ষকের মৌলিক একাডেমিক কর্তব্যও যথাযথভাবে সম্পন্ন হচ্ছে কি না—তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য কতগুলো কমিটি গঠিত হয়েছে, কতটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে কিংবা কতজন শিক্ষক প্রশাসনিক পদে রয়েছেন—তা দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না।

দেখতে হবে, শিক্ষার্থীরা কতটা মানসম্মত শিক্ষা পাচ্ছে, গবেষণা কতটা মৌলিক হচ্ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞানচর্চায় কী অবদান রাখছে। প্রশাসনিক দায়িত্বের কারণে কোনো শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস নিতে না পারলে, শিক্ষার্থীদের যথেষ্ট সময় দিতে না পারলে কিংবা গবেষণার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে না পারলে তাঁর প্রশাসনিক সাফল্য দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, দক্ষ প্রশাসন যদি শিক্ষকদের কাজের পরিবেশ উন্নত করে, গবেষণার সুযোগ বাড়ায় এবং শিক্ষার্থীসেবা নিশ্চিত করে, তাহলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত অগ্রগতিতে অবদান রাখে।

তাই প্রয়োজন প্রশাসনবিমুখতা নয়; বরং একাডেমিক অগ্রাধিকারসম্পন্ন প্রশাসন। প্রশাসনিক পদকে মর্যাদার প্রতীক নয়, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্র হিসেবে দেখতে হবে। শিক্ষকতার মান, গবেষণার গুণগত উৎকর্ষ এবং শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যায়নব্যবস্থায় যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।

চারদিকে প্রশাসনিক দায়িত্ব, সভা-সমিতি, কমিটির কার্যক্রম, সম্মেলন ও নানা আনুষ্ঠানিক ব্যস্ততা। অন্যদিকে, গবেষণার ক্ষেত্রেও অনেক সময় জ্ঞানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন বা মৌলিক অবদানের চেয়ে প্রকাশনার সংখ্যা বৃদ্ধি, পদোন্নতির শর্ত পূরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি অর্জন অধিক গুরুত্ব পায়। ফলে শিক্ষকতা ও গবেষণার প্রকৃত উদ্দেশ্য—জ্ঞানচর্চা, জ্ঞানসৃজন এবং শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ—কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে, সে প্রশ্ন থেকেই যায়।

এসব ব্যস্ততার মধ্যে শিক্ষার্থীরা কি তাঁদের প্রত্যাশিত শিক্ষককে নিয়মিত যথাসময়ে শ্রেণিকক্ষে পাচ্ছে? তারা কি এমন শিক্ষক পাচ্ছে, যাঁর কাছে নির্দ্বিধায় প্রশ্ন করা যায়, যিনি পাঠ্যবইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শেখান এবং যাঁর জ্ঞান, গবেষণা ও ব্যক্তিত্ব তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে অনুপ্রাণিত করে?

বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি। কারণ একজন শিক্ষককে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে আমরা হয়তো একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব সম্পন্ন করতে পারি; কিন্তু তার বিনিময়ে যদি তাঁর শিক্ষকতা ও গবেষণা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে সেই সিদ্ধান্তের সামগ্রিক লাভ-ক্ষতির হিসাবও করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত মর্যাদা প্রশাসনিক পদ-পদবির সংখ্যায় নয়, বরং জ্ঞানচর্চা, মানসম্মত শিক্ষাদান ও মৌলিক গবেষণায়। শিক্ষককে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু তাঁর মূল পরিচয় যেন সেই দায়িত্বের আড়ালে হারিয়ে না যায়।

শিক্ষককে শিক্ষক থাকতে দিতে হবে—কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন যত দক্ষই হোক, তার চূড়ান্ত সার্থকতা নির্ভর করে শিক্ষাদান ও জ্ঞানসৃজনে তার অবদান কতটা কার্যকর হচ্ছে, তার ওপর।