কোনো দায়িত্ব বা পদ গ্রহণের সময় শপথ অনুষ্ঠানে দায়িত্বের গুরুভার, আমানতের গুরুত্ব এবং আল্লাহর কাছে জবাবদিহির কথা স্মরণ করে একজন মুমিনের চোখে পানি আসতেই পারে, কান্নাও আসতে পারে।

এমন অনুভূতি অস্বাভাবিক নয়; বরং তা ঈমানি সংবেদনশীলতার প্রকাশও হতে পারে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো—

এমন একান্ত অনুভূতিকেও কি প্রকাশ্যে আনতে হবে? শপথের সময়ের কান্নাকেও কি মিডিয়া কভারেজ দিতে হবে?!

মনে রাখা দরকার,

একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির মূল্যায়ন শেষ পর্যন্ত তাঁর আবেগ দিয়ে নয়, তাঁর কাজ দিয়ে হবে।

দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন হলে মানুষ তাঁর কর্মই মনে রাখবে; আর দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে শপথের সময়ের সেই অশ্রু ও কান্নাই একসময় হাসি-তামাশা ও ট্রলের উপকরণে পরিণত হতে পারে।

কারণ,

আপনি যে অনুভূতিকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহির ভয় হিসেবে দেখছেন, সাধারণ মানুষ তার অন্তর্নিহিত ব্যাখ্যা জানবে না; তারা আপনাকে বিচার করবে আপনার প্রকাশ্য আচরণ, সিদ্ধান্ত ও কাজের ফলাফল দিয়ে।

তাই সব অনুভূতি প্রকাশের জন্য নয়, সব মুহূর্তও মিডিয়ায় তুলে ধরার জন্য নয়। বিশেষ করে আল্লাহভীতি, জবাবদিহির অনুভূতি, আত্মশুদ্ধি কিংবা অন্তরের এমন কিছু অবস্থা আছে, যা আল্লাহ ও বান্দার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়তো অধিক নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ।

সবকিছু প্রচারের আলোয় আনলে কখনো কখনো আন্তরিকতার চেয়ে প্রদর্শনই বেশি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

ইদানীং ইসলামী দলগুলোর ছোট-বড় প্রায় সব কার্যক্রমই—এমনকি একান্ত অভ্যন্তরীণ বা ইনডোর কর্মসূচিগুলোও—ব্যাপকভাবে মিডিয়ায় প্রচারিত হচ্ছে। একই সঙ্গে নেতাকর্মীদের মধ্যেও দৃশ্যমানতা ও প্রচারমুখিতার প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে।

অথচ ইসলামী কাজের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত প্রচার একসময় কাজের চেয়ে প্রচারকেই বড় করে তুলতে পারে; এমনকি যে আবেগ ও অনুভূতি শ্রদ্ধা জাগানোর কথা, সেটিও পরবর্তীতে বিদ্রূপের কারণ হতে পারে।

সবকিছু মানুষকে দেখানোর নয়। কিছু কাজের পরিচয় হোক তার ফলাফলে, আর কিছু অনুভূতির সাক্ষী থাকুন শুধু আল্লাহ। দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রচারের প্রয়োজনীয়তারও একটি সীমারেখা থাকা জরুরি।

—নিজস্ব পর্যবেক্ষণ