‘হক্কানী’, ‘বাতিল’, ‘গুমরাহ’—ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে শব্দগুলোর বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। তেমনি ‘মুফতী’, ‘মুফাসসির’, ‘আল্লামা’ প্রভৃতি উপাধিরও রয়েছে স্বতন্ত্র মর্যাদা ও তাৎপর্য।
কিন্তু যথেচ্ছ প্রয়োগ ও অপব্যবহারের ফলে এসব শব্দ ও উপাধি ক্রমেই তাদের স্বকীয় গুরুত্ব ও মর্যাদা হারাচ্ছে।
একসময় যেসব শব্দ ও উপাধি বিশেষ তাৎপর্য ও মর্যাদা বহন করত, এখন সেগুলো শুনলে অনেকের মনেই আর সেই গুরুত্ব জাগে না; বরং মনে হয়, একে অপরকে এসব অভিধায় আখ্যায়িত করা কিংবা এসব বিশেষণে ভূষিত করা আলিমদের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এমনকি, এসব শব্দ ও উপাধি এখন অনেকের কাছে হাস্যরসেরও খোরাক হয়ে উঠেছে।
ধর্মীয় পরিভাষা ও আলিমদের সম্মানসূচক উপাধিগুলোকে এভাবে গুরুত্বহীন ও হাস্যরসের বিষয়ে পরিণত করার দায় সংশ্লিষ্ট আলিমগণ কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না।
এর ফলে ধর্মীয় পরিভাষা ও আলিমদের সম্মানসূচক উপাধিগুলোকে অনেকটা হাস্যরসের বিষয়ে পরিণত করার দায় সংশ্লিষ্ট আলিমদের এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।
দুঃখজনকভাবে, এ তালিকায় এবার যুক্ত হচ্ছে ‘ফিতনা’ শব্দটিও। যদিও আগে থেকেই এ শব্দটির ব্যবহার অনেকটা হালকা হয়ে গিয়েছিল।
এভাবে চলতে থাকলে একসময় ফিতনা চিহ্নিত করতে গিয়ে শব্দটিই তার তাৎপর্য ও গুরুত্ব হারিয়ে ফেলবে; ফিতনা থেকে বেঁচে থাকা ও অন্যকে সতর্ক করার চেয়ে কে ফিতনাকারী, কোনটি ফিতনা—এসব আখ্যা দেওয়া ও তকমা সাঁটাতেই আমাদের আগ্রহ ও ব্যস্ততা বেশি হয়ে উঠবে।
পরিণতিস্বরূপ,
পরিণামে, ফিতনা থেকে উম্মাহকে রক্ষা করার কথা বলতে বলতেই আমরাই হয়তো ফিতনা বিস্তারের বড় অনুঘটকে পরিণত হব—
আর এভাবেই বাস্তব হয়ে উঠবে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সেই সতর্কবাণী, যার মর্ম হলো, তাদের থেকেই ফিতনার উদ্ভব ঘটবে এবং তাদের দিকেই তা ফিরে আসবে।