দ্বীন ও মিল্লাত, দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ একজন মুমিনের জীবনে কখনো দুঃসময়, কখনো সুসময় আসা অত্যন্ত স্বাভাবিক—এটাই জীবনের এক চিরন্তন বাস্তবতা।
জীবনের এ দুই অধ্যায়ই আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে পরীক্ষার অংশ।
দুঃসময়ের পরীক্ষার জন্য একজন মুমিন সাধারণত মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকেন।
এ সময় ত্যাগ ও ধৈর্যের মানসিকতা প্রবল থাকে; পারস্পরিক ঐক্য, সংহতি ও সদ্ভাবও অনেক ক্ষেত্রে সুদৃঢ় হয়।
কিন্তু সুসময়ের পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি সচরাচর তেমন থাকে না।
এ সময় নেতৃত্ব, কর্তৃত্ব ও সুযোগ-সুবিধা লাভের প্রতিযোগিতা বেড়ে যায়; পারস্পরিক সম্পর্কেও দেখা দিতে পারে টানাপোড়েন। ফলে বিপত্তিও অনেক ক্ষেত্রে এ সময়েই বেশি ঘটে।
এ সময় জাগতিক সাফল্য, প্রাচুর্য ,নেতৃত্ব, ক্ষমতা ও স্বাচ্ছন্দ্যের মোহে মানুষের লোভ-লালসা বেড়ে যেতে পারে; ব্যক্তিস্বার্থ, পদ-পদবি ও কর্তৃত্বের আকাঙ্ক্ষা ক্রমে প্রবল হয়ে উঠতে পারে।
এর ফলে নীতি ও আদর্শ থেকে বিচ্যুতি, পারস্পরিক বিরোধ এবং ঐক্য বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তীব্র হয়।
যে সুসময়কে দ্বীন ও মিল্লাতের বৃহত্তর কল্যাণে কাজে লাগানোর কথা, অসতর্কতার কারণে তা-ই কখনো আত্মকলহ ও বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তাই দুঃসময়ে ধৈর্য, ত্যাগ ও অবিচলতার মাধ্যমে যেমন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়,
তেমনি সুসময়ে নিষ্ঠা, আত্মসংযম, ইনসাফ, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও আল্লাহসচেতনতা বজায় রেখেও পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়।
বিপদে অবিচল থাকা যেমন কঠিন, সুসময়ে আদর্শের ওপর অবিচল থাকাও তেমনি কঠিন।
দুঃসময়ে ধৈর্য হারানো যেমন পরাজয়, সুসময়ে আদর্শ হারানো তেমনি বড় পরাজয়—শুধু পরাজয়ই নয়, চরম অবক্ষয়েরও লক্ষণ।