সম্প্রতি ফেসবুক সূত্রে একটি ইসলামি সংগঠনের সীরাত মাহফিলের একটি পোস্টার নজরে পড়ল। পোস্টারটি দেখে মনে হলো, আমাদের রুচিবোধের জায়গাটিতেও বোধহয় কিছুটা খরা নেমেছে!

হ্যাঁ, কোনো কর্মসূচি যদি একান্তই দলীয় বা সাংগঠনিক নির্দিষ্ট পরিসরে হয়, সেখানে অতিথি, আলোচক ও বক্তাদের নাম সাংগঠনিক পদমর্যাদা ও দায়িত্বের ক্রমানুসারে দেওয়াই স্বাভাবিক।

কিন্তু কোনো সর্বসাধারণের ধর্মীয় মাহফিল, বিশেষত সীরাত মাহফিলের মতো একটি দ্বীনি অনুষ্ঠানে, নামের ক্রম নির্ধারণের ক্ষেত্রে জ্ঞান, ইলমগত সিনিয়রিটি, বয়স, সামাজিক মর্যাদা ও সামগ্রিক গ্রহণযোগ্যতার মতো বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখা উচিত।

বর্তমান সময়ে কোনো কোনো তরুণ বক্তা সামাজিক মাধ্যমে বেশ ভাইরাল বা জনপ্রিয়—এটি নিঃসন্দেহে একটি বাস্তবতা।

কিন্তু শুধু সাংগঠনিক পদ, জনপ্রিয়তা কিংবা ভাইরাল হওয়ার কারণে এমন কাউকে ‘প্রধান ওয়ায়িজ’ বা ‘বক্তা’ হিসেবে সবার আগে স্থান দেওয়া, যিনি বয়স, জ্ঞান ও ইলমগত সিনিয়রিটির বিচারে সেখানে উপস্থিত অন্য অনেক শীর্ষ আলিমের তুলনায় যথেষ্ট জুনিয়র;

আর সেই সিনিয়র আলিমদের ‘বিশেষ ওয়ায়িজ’ ইত্যাদি পরিচয়ে পরে স্থান দেওয়া—বিষয়টি দৃষ্টিগতভাবে বেখাপ্পা তো বটেই, নামের ক্রমেই যেন রুচির খরাটাও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সাধারণ সামাজিক বা বাণিজ্যিক প্রচারণায় হয়তো এ ধরনের নামের ক্রম খুব একটা গুরুত্ব পায় না।

কিন্তু একটি ইসলামি সংগঠনের আয়োজিত বৃহত্তর জনপরিসরের দ্বীনি মাহফিলে অন্তত আলিমদের মর্যাদা ও শিষ্টাচারের বিষয়টি একটু বেশি গুরুত্ব পাওয়াই প্রত্যাশিত।

কারণ, একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের আচরণ ও উপস্থাপনাও তার রুচি, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের পরিচয় বহন করে।

অবশ্য অপেক্ষাকৃত তরুণ ও জনপ্রিয় কোনো বক্তাকে যদি অনুষ্ঠানের প্রধান ওয়ায়িজ করতেই হয়, তাতেও আপত্তির কিছু নেই।

সেক্ষেত্রে অনুষ্ঠানে উপস্থিত শীর্ষ ও সিনিয়র আলিমদের প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি বা সম্মানিত অতিথি হিসেবে উল্লেখ করে তাঁদের নাম উপরে রাখা যেতে পারে।

এতে একদিকে তরুণ বক্তার জনপ্রিয়তার বাস্তবতাটিও বজায় থাকে, অন্যদিকে সিনিয়র আলিমদের জ্ঞান, বয়স ও মর্যাদার যথাযথ সম্মানও রক্ষা হয়।

অর্থাৎ, বিষয়টি শুধু নাম আগে-পরে লেখার নয়; এর সঙ্গে রুচিবোধ, শিষ্টাচার এবং আলিমদের পারস্পরিক মর্যাদা প্রদর্শনের একটি সংস্কৃতিও জড়িত।

জনপ্রিয়তা ক্ষণস্থায়ী হতে পারে, ভাইরাল হওয়াও সময়ের সঙ্গে বদলায়; কিন্তু আলিমদের ইলম, বয়স ও মর্যাদার প্রতি সম্মান একটি স্থায়ী মূল্যবোধ।

একটি ইসলামি সংগঠনের কাছ থেকে তাই এ বিষয়ে একটু বেশি পরিমিতিবোধ, রুচি ও প্রজ্ঞা প্রত্যাশা করাই স্বাভাবিক।