অনেকেরই মনে এ প্রশ্ন জাগে,

আমরা নিয়মিত আল্লাহর ইবাদত করি এবং তাঁর নিকট দুআ-মুনাজাত করি;

কিন্তু দুনিয়ায় এসব আমলের আধ্যাত্মিক সুফল ও ফজীলত দেখতে পাই না কেন?

এর একটি প্রধান কারণ হলো,

আমরা নিয়মিত নামাজ পড়ি, যাকাত দেই, রোজা রাখি, হজ্জ করি সত্যি;

কিন্তু আমাদের অনেকেরই ঈমান বিশুদ্ধ নয়;

হয় কপটতামিশ্রিত অথবা মারাত্মক ত্রুটিযুক্ত;

আবার অনেকেই জানেও না,

প্রকৃত ঈমান কী, এর দাবিগুলো কী কী?

কিসে বা কীভাবে ঈমান নষ্ট হয়ে যায়

অথবা কীভাবে এর ঔজ্জ্বল্য ও শক্তি ম্লান হয়ে যায়?

আবদুল্লাহ ইবনু আমর রা. বলেন,

لَيَأتِيَنَّ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ يَجْتَمِعُونَ فِي الْمَسَاجِدِ ، وَلَيْسَ فِيْهِمْ مُؤْمِنٌ.

"লোকদের কাছে এমন একটি সময় অবশ্যই আসবে, যখন তারা মসজিদগুলোতে জমায়েত হবে;

কিন্তু তাদের মধ্যে (প্রকৃত) ঈমানদার বলতে কেউ থাকবে না।" (হাকিম ও তাহাবী)

রাসূল সা.-এর যুগেও মুনাফিকরা নিয়মিত মসজিদে নববীতে তাঁর সাথে একত্রে নামাজ আদায় করতো; কিন্তু তারা প্রকৃত মুমিন ছিল না।

এ কারণে তাদের সেই নামাজ কবুল হয়নি এবং এর আধ্যাত্মিক সুফলও তারা পায়নি।

বিভিন্ন হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. নামাজ, রোজা, ইতিকাফ প্রভৃতি ইবাদত কবুল ও পুরস্কার লাভের উপযোগী হবার জন্য ঈমানের শর্ত আরোপ করেছেন।

এ হাদীসগুলো থেকে জানা যায়,

সত্যিকার ঈমান ব্যতীত কোনো আমলই আল্লাহ তাআলার নিকট কবুল ও পুরস্কার লাভের উপযোগী নয় এবং দুনিয়ায় এসব আমলের আধ্যাত্মিক সুফলও পাওয়া যায় না।

উল্লেখ্য, হাদীসগুলোতে ঈমান বলতে যেমন ইসলামের সামগ্রিক বিধিবিধানকে স্বাচ্ছন্দ্যে গ্রহণ ও মেনে নেয়াকে বোঝানো হতে পারে,

তেমনি সংশ্লিষ্ট আমলের গুরুত্ব, মাহাত্ম্য ও কার্যকারিতার প্রতি বান্দার দৃঢ়, সংশয়হীন আস্থাকেও বোঝানো হতে পারে।

কেউ এ প্রশ্নও করতে পারে,

বান্দার ঈমান আছে বলেই তো সে নামাজ পড়ছে, রোজা রাখছে, হজ্জ করছে।

এরূপ অবস্থায় হাদীসগুলোতে ঈমানের শর্ত যোগ করার কারণ কী?

এ প্রশ্নের উত্তর হলো,

এমনও হতে পারে যে, কোনো মুনাফিক কিংবা বদদীন তার ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার অসৎ উদ্দেশ্যে মুসলিমদের জামাতে শামিল হয়ে তাদের সাথে নিয়মিত নামাজ পড়ছে, রোজা রাখছে, হজ্জ করছে;

অথচ তার মধ্যে না আছে ইসলামের বিধিবিধানের প্রতি কোনো সত্যিকার ঈমান,

না আছে সংশ্লিষ্ট আমলের গুরুত্ব ও কার্যকারিতার প্রতি কোনো দৃঢ় আস্থা।

এরূপ অবস্থায় সে নানা ইবাদত করে বটে;

কিন্তু তার সেই ইবাদতগুলো তার ঈমানের প্রকৃত অভিব্যক্তি নয়; এগুলো কেবল প্রদর্শনমূলক ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এ কারণেই তার সেই ইবাদতের মধ্যে আন্তরিকতা ও বিনয়ানুভূতির আমেজ খুব কমই পরিলক্ষিত হয়।

আবার এমনও হতে পারে,

কোনো মুসলিম হয়তো নামাজ, রোজা, হজ্জ প্রভৃতি ইবাদত আদায় করে বটে;

কিন্তু তার মধ্যে ইসলামের অন্যান্য বিধিবিধানের প্রতি যেরূপ ঈমান থাকা প্রয়োজন, সেই ধরনের সাচ্চা ও দৃঢ় ঈমান তার মধ্যে নেই।

এরূপ ব্যক্তি যদিও ঈমানের আচ্ছাদন পরিহিত;

কিন্তু তার প্রায় আচার-আচরণ ও কার্যকলাপ ঈমানের পরিপন্থী বলে প্রতীয়মান হয়।

সে নিরন্তর ইসলামের বহু বিধিবিধানের বিরোধিতা করে কিংবা এগুলোকে অবজ্ঞা করে চলে।

***

ঈমানের পরিচয়, স্বরূপ, মৌলিক বিষয়সমূহ ও এর দাবিগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন:

'উসূলুল ঈমান ১-৪ খণ্ড'